উত্তর দিতে দিতে কবিতা জুবায়ের দুখু
সুবাইতা আর আমার প্রেমের শুরুতে এই লেখাগুলো লেখা হয়েছিল। এখানে প্রেমের কিছু ছাপ আছে। আমাদের সুন্দর প্রেমের গল্প আছে।
এক
তোমাকে তেহরানে ঘর বানিয়ে দেব
গুগল ম্যাপ দেখে পরশু লোকেশন বের করেছি...
ফুল হাতে যে যুবক একা দাঁড়িয়ে থাকতো
তার মত হৃদয় আমার— আর অতিশয় মেঘ
জারুল পাতার মুখে কী বিস্তীর্ণ সুবাস ছড়িয়ে
আমার কোডিংয়ে ভুল করে দেয়। কীভাবে বলি
এই তেইশ বছরের বর্ষার জল—
আমার চোখের একফোঁটার সমতূল্য হতে পারেনি।
দুই
তোমাকে ড্রপ করিয়ে দেয়ার কথা ভাবি
কিন্তু আমার গাড়ি নাই।
মোবাইলে আমরা কথা বলতে বলতে স্ট্রং করে ফেলি
হোয়াইট এঙ্গেলে দু'চারটে ছবি তোলার ফ্রেমিং।
অথচ আমাদের দেখা হয় না
আর না হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আরও বেশি ঝুকে পড়ি
উত্তরের মেঘ যেমন বৃষ্টির জন্য ঝুকে পড়ে পাবনাতে।
এই-যে বৃহস্পতিবার চলে গেলো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে
আমি কী চাইলে পারতাম না মদের গেলাস হাতে নিতে?
কেন এতো উতলা হয়ে ভ্রমণ করি ড্যামেজ মেমোরিতে?
আয়ুর পথ ধরে ফুলগাছ লাগিয়ে শূন্য ঘরে বসে থাকি,
আর আগুন না জ্বালিয়েও ভরা যৌবনে গরম হয়ে আছি।
তিন
ভ্রমণে যাবো ভাবি, কিন্তু লোকেশন চুজ করতে করতে একটি শনিবার থেকে অন্য আরেকটি শনিবার আমরা গত করে ফেলি। ভাবো কারওয়ান বাজার থেকে চাইলেই তোমাকে দেখতে পারি। তুমি বাসাবো কিংবা ডেমরা যে জোনেই থাকো না কেন আমি প্রতি সেকেন্ডে পৌঁছে যাই হৃদয়পটে। আর কে আছে এমন ভ্রমণ পিপাসু? টুরিস্ট ভিসা ছাড়া গমন করে তোমার ভেতর? দেখো এই তরুণ আনন্দিত দিনে পাঞ্জাবি গায়ে তোমাকে একটা ছবি পাঠালাম। তুমি লাভ রিয়েক্ট দিলা। আমার বুক গুলির আঘাতে ঝাঁঝড়া হয়ে গেলো।
চার
আমরা বেড়াইতে যাবো। ভাবি কোন দিকে যাওয়া যায়। উত্তরে আমার বাড়ি আর শত্রুদের ভয়ে আগেই আহত হয়ে উঠি। পশ্চিমে যাওয়া যাইতে পারতো। তবু নারীদের চোখের দিকে তাকিয়ে ভুলে যাই সকল মানচিত্র। গুলিস্তান, মোহাম্মদপুর তোমার পছন্দ না। চলো যাই চলো গাজীপুরে অথবা মধুপুরে হরিণে কাছে। হরিণের মাংস খেতে খেতে আমার তোমার মাংসের দিকে লোভ জাগতেই পারে। তোমার কী গুলশানের মেয়েদের মত ট্রপ পড়ে ঘুরতে ইচ্ছে হয়? অথবা ধানমন্ডির লেকে মেহগনি গাছে পিঠ ঠেকিয়ে লাচ্ছির পাইপ চুষতে চুষতে বলবা আহ কী শান্তি?
পাঁচ
শৈশবে হারিয়ে ফেলা একটি নদী আর একটি শাঠিমাছ আমার ভেতর বাস করে। প্রতি বর্ষায় যখন ক্যানালে পানি আসে কচুরিপানার শিশুমুখ খলখল হাসে সূর্যের ছায়ায়। আমার ভেতর যে মাছ ঘাই মারে বর্ষণবোধের আকর্ষণে। তোলপাড় গোধুলির নিকটে নিঃস্ব পাখির কাছে জিজ্ঞেস করি আমার এ বর্ষাবোধ ও মেঘ ক্রিটিজম। নিসর্গ নীলের নীড়ে সওদা যেন শেষ হয় না। পা থেকে পথরেখা অংকের খাতা মনে হতে হতে হয়ে উঠি জারুলের শাখা। দেখি শৈশব মনে একটি বৃদ্ধ ঘুমিয়ে পড়ে আমার পাতার নভোযানে৷ আর একটি উত্তর হরিণের মাঠ খা খা বৃষ্টি'তে শুকিয়ে উঠেছে ঝুম রোদের কামনায়। তখনও আমাদের আদিমকাল। এবং ফয়েজের উর্দু কবিতা ও ধুলিমাখা দৃশ্যের আগ্রাসনে জীবনের ক্যালকুলেশন মাত্র বাইনারি লজিকে তুলে ধরেছি। পিছ ফিরে জানা গেলো এ-ও অসহায় ও নির্বোধ গোঁয়ার প্রাণির আচরণ।
ছয়
তোমাকে উত্তরবঙ্গের ভাষায় অনুবাদ করি। আর পান্তা ভাতের যে সকাল গত হয়েছে চাকরি পাওয়ার আশা। ছেড়া স্যান্ডেল পায়ে হাটতে হাটতে আমি এই কথা ভাবি। কীভাবে মানারাতের ঘাস তোমাকে আদর করে। লম্বা চুলের নারীরা একবার পাশ দিয়ে উড়ে গেলে ঘাই মেরে ওঠে যৌবন। এসব কথা মুখবন্ধ আসামির মত গিলে খেতে হয়। শহর আর গ্রামের মধ্যে উল্টাপাল্টা করে ফেলি। তোমাকে শহরে পেয়েছি কবিতার হাটে। ভাঙা গাড়িতে অনেক যাত্রী অনেক বাড়ি ফেরে। তোমাকে নিয়ে যাই গ্রামে। চাকরিটা শহরে বড় হতে থাকে। ডাকঘর, টেলিফোন, ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, লিংকডিন, গ্রামীণ বাংলালিংক, খোলা রাখি। যদি আসে করপোরেশন বা লিমিটেডের খবর। আসে যদি মৃত্যুকে মেরে ফেলার তারিখ। আমরা কাজি অফিস পৌঁছে যাব।
সাত
সেইসব রাত্রি থেকে দূরে থাকি। যেখানে সাফারি পার্কের পাখিরা গণবিলুপ্তির গান বাজায়। আত্মার নিকট থেকে একবার আমাদের মায়ের চুড়ি ভেঙে গেল। শিউলি উঠোন ভিজে একাকার। মিথ্যা হত্যার দায় মনে নিয়ে আসামির মত ঢুকে পড়ি একাকীত্বের ভেতর। অনির্দিষ্টকালের ফাঁসি ঝুলিয়ে রাখে হিমোগ্লোবিনের দরিয়ায়। পিছু ফিরে তাকাতে পারি না। অবিচল শূন্যের বিড়ালেরা পা মেলাতে থাকে অতিথি মনে। কী যে হয় তোমার দিকে তাকালে। যেন ধর্মীয় গান নব নির্মাণ। যেন তোমার চোখ ইজরাইলের গুলি।
আট
তোমাকে গাজার গল্প বলি। ফিলিস্তিনে যে মাসুম বাচ্চা একা বেঁচে আছে একটি স্বাধীন গানের সুর মনে নিয়ে। আর যে ঘর ভেঙে গ্যাছে ইজরাইলের ভূমিকম্পে। তারচেয়ে অধিক ধ্বংসযোগ্য পুষে রেখেছি বুকে। যখন আতঙ্ক ভরা রাতে ভাবি একশকাল আমাদের মিলনের হাতছানি। মাঝখানে কে এসে দাঁড়ায়? আবছায়া। ঈশ্বর ছাড়া এমনতো আর কেউ নেই।
নয়
আমি ঈশ্বরকে ভালোবাসি
যখন শুনি মলিন গান
ভূমিকে বিক্রি করে পালাতে ইচ্ছে করে।
পালাতে গিয়ে দেখি
পায়ের জন্য অপেক্ষা করছে আরও হাভাতে ভূমি।
আমার হৃদয়কে ঈশ্বর
তোমার মতো ভালোবাসি।
আমার মৃত্যু হলে
তোমার বেঁচে থাকাটা হাস্যময় হয়ে ওঠে?
দশ
জেগে থাকি
আমার দেশের ভূমি ঈশ্বর তুমি।
যদি চুরি হয়ে যাও
জেরুজালেম কিংবা রাখাইনের মত,
এ বুকে প্রেমিকার ঘর কী করে বানিয়ে দেব?
পলিথিনের ছায়ায় কতটুকু
আলোর আস্তাবল মজবুত থাকে
আমরাতো মেসোপটেমিয়া নই
মুঠোতে বন্দী রাখি বকুল ফুলের সুগন্ধি শরীর।
তুমি বাড়ি হইয়ো ঈশ্বর
তুমি ধানগাছ ও হইয়ো।
এগারো
বুকে বপন করি
জলপাই পাতার নাচ।
দ্য গ্রিক আমরা নই
ফিলিস্তিন রাখাইন নই
আমাদের বুকে বাংলাদেশ।
সদ্য জন্মানো শিশুর মত
ও হাসে, যেন আমার প্রেমিকার মুখ।
ভালোবাসি প্রিয়তমা তোমাকে
দেখো রক্তের ভেতর কীভাবে
তোমার বীর্জ বৃক্ষ হয়ে ওঠে।
বারো
ঘুমে তুমি স্বপ্ন দেখো
মেট্রোরেলের গতিতে আমরা পালাচ্ছি
তবু আমাদের ভেতর
একে অপরকে নিয়ে বেঁচে থাকা।
সদ্যজাত শিশুর ধ্বনিতে
যে পরিষদ মেম্বারশিপ পেয়ে যাই
তাকে তুমি কী বলো? কীব ভাবো?
ব্যথার অনূকূলে সোনা
আমি পেতে রাখি মাথা ও মস্তকসমূহ
তুমি ইব্রাহিমের ছুঁড়ি হবে?
তেরো
তোমাকে ভালোবাসি উজ্জ্বল মাছ
গোরস্তানের ডোবা থেকে উঠে এসে বাসা বেঁধেছ বুকে।
প্রসস্থ বুক ফিলিস্তিন নয় সোনা
ঘাসের আঙিনা জুড়ে যেমন হরিণেরা দৌড়ায়
রমনা শ্বেত শিমুল নাচে যে হাওয়ায়—, তেমন।
বিশ্বাসযোগ্য মন নিয়ে তোমাকে হতাহতের চিঠি লিখি
স্বাধীন করো এই একাকীত্বের স্বৈরাচার ভূমি।
চৌদ্দ
আঘাতের স্বরবর্ণ দিয়ে
লিখে চলি রোজনামচা।
এখন অসুখের দিনে
খোঁজ করে বেড়াই অসুখী দৃশ্য।
পালিয়েছে ওরা,
পালানোর পা নিয়ে পালাতে পারি না!
ওরা যায়, যাওয়া দেখি।
“ও মাই ডিয়ার
আই লাভ ইউ”
কথাগুলো স্মুথ—
বললে তবু কেন
'অসুখ' অসুখী হয়ে ওঠে?
পনেরো
আমরা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে থাকি
এসো বন্ধ করে দেই পৃথিবীর গন্ধ জানালা।
বসন্তের চেরিফুল ফুটে গ্যাছে—
আমাদের আয়তন জুড়ে তরুণ নদী ফিরে আসে
কথা কয়, নাচে, খায়, বারেটারে যায়।
একলা হয়ে ওঠা এত বিরক্তিকর—
চুক্তিবদ্ধ সুখও সাহস ফুরিয়ে ভেসে বেড়ায়
তখন ঘাসের পদতলের মত ব্যথা নিয়ে
বাড়ির পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে দিন-গুনি
ফেব্রুয়ারিতে আমাদের দেখা হলো মৃত্যুর পর হবে তো?
ষোলো
যাবো শিয়ামসজিদ তোমাকে নিয়ে
প্ল্যান করে রাখি আর দিন গুনি
ঠিক কবে গেলে শিশুটা আমাদের সালাম দেবে?
জন্মের মৌসুমে গুগলে দেখেছিলাম
ফাঁকা রাস্তা সুলক্ষণ নয়—
প্রসব বেদনা জানোতো?
গোল্ড স্টারের পাশ দিয়ে হাওয়া যেতে যেতে
ট্রান্সসিলভা বাসে স্যাঁতসেঁতে জীবন!
উন্মেষ উদ্ভাসে হলো না মিলন
পরাজয় তাহলে বাসা বেঁধেছে বুকে?
কার্ডিয়াক রোগ নিয়ে তাই বিসলল খাই
ইন্স্যুরেন্সের গান শুনি— পতনের পাতায়
আঁকিয়ে তুলেছি ঋতুর সিনেমা
বহু মনোরথে, বহু মনোরথে, বহু মনোরথে ।
সতেরো
তোমাকে ভালোবাসি বলতেই পারি
কিন্তু ভালোবাসা সহজ না
বাজারে ডিসকাউন্টে বিক্রিকৃত এমন।
লাইফ আসলে ফার্নিচারের মত
ব্যবহার করতে হয়, খুব বেশিদিন টেকে না
তাই রঙ, জঙ, ড্রেস পাল্টাতে হয়।
এসব একঘেয়েমির ভেতর নিজেকে বোঝাতে হয়
জীবন আসলে ঢেঁকিশাক
ভালোবাসার মানুষটি ভেজে খায়।
আঠারো
তোমাকে দেখতে দেখতে বড় হই
গাজর দাসীর ছেলে
রত্নভান্ডার ভেসে গ্যাছে বিরহজলে
ফ্যাসিবাদের সেলে।
আহত না হই, হতে দাও আমাকে
জামরুলের মেঘদল
হাওয়ার দরবারে স্থির থাকা যেমন
একেবারে অচঞ্চল।
দোপাট্টা বেঁধে হারাইয়েছো হৃদে
গর্দানহীন মৌসুমে
খোদা মানি কিনা তোমারেই মানি
খোদাও কনফিউজমে।
সাধক তো তাই সাধ করে যাই
তোমাকে দেবী তুল্য
আমার সাধনা তোমার নদী ঘিরে
বাকি শালারা অমূল্য।
বিশ
মনের রওজা শরীফে
তোমাকে বিছানা পেতে দেই
আতঙ্কে থাকি ও ভাবি
এখনও কোনো রাবণতো নেই?
রফিক চাচার মেয়ে
দুঃস্বপ্নে হাইব্রিড মরিচক্ষেত
প্রেমের সব রওজায়
বিভাজন থাকে আকাশ সমেত।
একুশ
শহরের কোনো ঘুপচিতে বসে আছি আমি
ভাবছো ডেন্ডি খোর
চুল লাল ভাবছো টিকটকার
আমার যে বসে থাকা, জিজ্ঞেস করতে ভয় পাচ্ছো হয়তো
আমি ভয় পাই না এই শীতছায়া
ক্ষুধামন্দা, রগকাটা,
রুগ্ন মা মুরগিটার মতো পাতলা পায়খানায় দিনশেষে মরে যাওয়া।
অনাদিকাল যে সমস্ত দুঃখ আমাকে ঘিরে ছিল
পাতা ঝরে কিন্তু ওদের ঝরতে দেখি নাই,
আমি যেন মাঠ আর দুঃখরা আমার সন্তান
সেইসব সন্তানেরা জন্ম দিচ্ছে আরও সন্তান আরও থেকে আরও।
আমি জানি আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না!
তোমাকে ভালোবেসেছি আবার দুঃখও দিয়েছি
ভেবেছিলাম সুখী হবো
কিন্তু সুখীতো হলে তুমি, আমি হলাম বনপায়রা।
পরাস্ত ছাড়া কোনো ঘোড়াই দৌড়ায় না আমার ভেতর
আমি এক পোড়োবাড়ি ধ্বংস প্রাপ্ত প্রাচীর,
তাই তোমাকে তো কিছুই দিতে পারিনি
এই কবিতাটা তোমাকে আমার অবয়ব প্রেমিকা এই কবিতাটা তোমাকে।
বাইশ
কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর গেইটের সামনে বসে ছিলাম চারদিন
একটা চাকরির ব্যবস্থা করে যদি কেউ,
ডেইলি স্টারের সামনে একই আকৃতিতে
ফোনে মেসেঞ্জারে হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকজনকে বলেও ছিলাম
একটা পরিপক্ব চাকরি আমাকে নিল না।
এইসব কথা মাকে-ও চিঠিতে লিখতে পারিনা
ফোনে বলতে পারি না গলা কাপে
আমার সমূহ ভাতৃগণ কবি সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী=মাদারচোদ
শোনো আমার কবিতা, কোনো মুয়াজ্জিনও এমন করে আযান দিতে পারেনি
কারণ খোদার পরে আমিই এমন বাণী তৈয়ার করেছি।
খোদাকে চেনো? না চিনলে আমাকেই ডাকো
কেননা মৃত্যুর পর আমি তোমাদের তিনদিন থাপ্পড়াবো
আমি হবো তোমাদের মূলকার নকির...


Comments
Post a Comment