১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস কেন?
![]() |
| মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ |
ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করেছিল। তবে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ আগস্টকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপন করে। এর পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নানা কারণ।
মূলত, ব্রিটিশরা পাকিস্তান গঠনের বিরোধিতা করেছিল। ভারতকে একক ভূখণ্ডে রাখা ব্রিটিশ নীতির অংশ ছিল। ১৯৪৬ সালে তারা ভারতকে একতাবদ্ধ রাখার চেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ব্রিটিশরা জিন্নাহকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তিনি নেননি। যদি তিনি তা মেনে নিতেন, আজকের ভারত এত রাষ্ট্রে বিভক্ত হত না। জিন্নাহ ও মুসলিম লীগের অবস্থান ছিল ‘বিভক্ত করো ও শাসন করো’ নীতিকে সামনে রেখে। এ প্রেক্ষাপটেই ১৯৪৭ সালের ভারত-বিভাজন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের সৃষ্টি ঘটে।
অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী পাকিস্তানও ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে। তবে পাকিস্তানের করাচিতে আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুষ্ঠান হয় ১৪ আগস্ট। পাকিস্তান সেই দিনটিকেই তাদের স্বাধীনতার দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৪ আগস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করেন।
এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সময়ের পার্থক্যও প্রভাব ফেলেছে। ভারতে যখন ১৫ আগস্ট মধ্যরাত, পাকিস্তানে তখন ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টা। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যও পাকিস্তান স্বাধীনতা দিবস হিসেবে গুরুত্ব দেয়।
ব্রিটিশ গভর্নর লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বীকার করেছিলেন, ‘জিন্নাহই একমাত্র ব্যক্তি যিনি অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন’।
জিন্নাহ না থাকলে ভারত ঐক্যবদ্ধ থাকত বলে মাউন্টব্যাটেন উল্লেখ করেন।
১৫ আগস্টের দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা হওয়ায় মাউন্টব্যাটেন ভারতকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান আলাদা উদযাপন করে এবং নিজেদের স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রাখে।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের প্রথম ডাকটিকিটে ১৫ আগস্ট লেখা থাকলেও, সরকারি উদযাপন ১৪ আগস্টেই অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান স্বাধীনতা দিবসের তারিখ নির্বাচন মূলত ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব, জিন্নাহর নেতৃত্ব এবং স্বাতন্ত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার সমন্বয়ে গঠিত।
জুবায়ের দুখু, শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা বিভাগ।



Comments
Post a Comment