সুবিতা ও অন্যান্য কবিতা

 

গ্রাফিক্স কার্ড। 

কবিতা তুমি সুবিতা

উত্তর থেকে মেঘ জন্মাচ্ছে গান। তখন সদ্য এটো দুপুর তুলেছ তুমি অদ্ভুত যৌবনের দিকে। এপাড়া থেকে ওপাড়া ব্লাউজ পড়া নারীরা বলছে- এলো গাঁয় সোনা বন্ধুর পিরিতের জান। এ কোমলমতি শিশু— পরীক্ষার খাতা থেকে তখনও তুমি উঠাতে পারোনি পাবলিকের খসড়া। সোনা বন্ধুর পিরিতের জান— এঁকেছ এঁকেছ বিষদাঁত?

ওই দূরে লতিফের বাগান— ওই দূরে মরিয়মের তালপাতা— আমি তার সন্তান, বুঝেছ সবিতা সবিতা? এসেছি পোড়া হাত নিয়ে! গালিবের সেই গজলের মতো তোমাকে কুড়াতে। কুড়াতে কুড়াতে জেনেছি, পাতা কেবলই পুড়তে জানে।

এক সন্ধ্যা তখনও আমরা পার করিনি— নিভু নিভু চাঁদ, সোনা আমার— নিভু নিভু চাঁদ উঠেছে গ্রিলের ফাঁকে। আমার তো আঙুল নাই হয়ে যায়— আমার তো কথা নাই হয়ে যায়— পর্বতের দূর দূর ঘরে, কে যেন বাজায় শামুকভাঙা মাগুরের আযান। তারই নিচে মাথা পেতে একশোবার পড়ি— আমাদের পরবর্তী চাঁদ, ইস্কাটনে গড়ে ওঠা ইস্পাতের কারখানায় চাপা পড়ে গেছে।

এতো নয় গালিবের রেওয়াজ— এতো নয় গরিবের রেওয়াজ। শিমুলের চারা বুনেছি বুকে, বসন্ত আসে— আসে মিলনের হাওয়া— এককালীন টাকা তুলে আমারও কিনতে ইচ্ছে করে ‘অমর নীরবতা’। সোনা বন্ধুর পিরিতের জান— বুনেছ বুনেছ সহেলি ফুলের সকাল?

এলোমেলো চুল তখনও পারোনি বাধতে, বুক থেকে ওড়না হাওয়ায় উড়লে— আমি তবু সেই তোমারই ওড়না। বলে পাড়ার লোকে, এলো গাঁয় সোনা বন্ধুর পিরিতের জান। তারই নিচে মাথা পেতে একশোবার পড়ি— আমাদের মুখে কোনোদিন ধানগাছ শালিককে শোনায়নি গান।

তাই বলে যাবে? হারুনের বেটিটার মতো— হাসির মুখ পেলে, বুকের মানচিত্র না চিনে? বলতো বলো— কার আছে এই ভাঙা ভাঙা টান—  প্রেমের অভিমান? সে তো সেই ম্লান তোমারই ছায়া— যার পিছে গেছে তরুণ বিকেল, তরুণ কবিতা।

ঘোড়াগুলো চেনো? তোমারইতো ভাই, ছুটে ছুটে যায়— বলছি না তাই— আমিও যে রাখাল, তোমাকে চড়াই, তোমাকে গড়াই।


মুদ্রার দোকান

উজ্জ্বল দ্বীপে সকল বাসনা ব্যবহারের শাস্ত্র শিখি। বিনীত রুহের উঠোনে তুমি রেখে গেছ সহজ মাছের পোনা। তবুও ডুবুরির ক্ষত নিয়ে আকৃষ্ট হই পাতার শৈশবে— যেখানে লেবুর বন ঘ্রাণ করেছে অপচয় দক্ষিণাশ্বাসে।

আরও আত্মরক্ষা অবসাদগ্রস্ত হয়, খুলে বসি মুদ্রার দোকান। শিরীষ ফুলের প্লাটফর্মে অগণন শাখাকে ছুটে যেতে দেখি শূন্যের গ্রহতলে। তখন জ্যোৎস্না পৃথিবীর চতুর্দিকে উলঙ্গ গাছের অবিচ্ছেদ্য অংশ! হে নতুন শূন্য পুলকিত হও, উত্তপ্ত সাগর সান্নিধ্যে ডাকো।


জলপাখি

পৃথিবীর আহত গৃহতলে গানের রক্তিমা আয়োজন করি। যে সকল সুর পলায়ন মাংশের মনে— বাদ্যাদি দুধসকালে তা যেও ফেলে সরল ঋতুবনে। হে কালপরিণয়, হে তুমি... অহেতুক নগ্নরূপে করো উদ্বেগ প্রকাশ— যেন, জলপাখি ডুবুরির অভিপ্রেতে তুলে আনে— এ মৎস্যপ্রাণ, এ অধিকৃত মাকড়সাভূমি।


সুবিতা

আমাদের নিবন্ধনজুড়ে তিনটি প্রস্তাব আলোড়িত। শেষ দৃশ্যে একটি হরিণ, আর একজন কুমার দীর্ঘকাল প্রদীপের নিষ্কাম আলোয়, শোনে নিজের ভেতরকার বজ্রপাত। তখন ধূম্র ফুর্তিগুলো উজ্জ্বলকে ঘিরে— মতকয়েক তরুণচোখ বনভোজনে যায়। আর আঙুর সম্পাদনাসমূহ জোয়ান জবাবের ত্রিধ্যানে ফেঁপে ওঠে— যেন আয়ুর ক্ষেতভরা মানুষের নীল মগজ চিত্রায়ণ করছে সুবিতা।


মেরুন

‘সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী’— এই জেনে— প্রতিটি আপেলের ক্ষেত জ্যোতিচক্রের মতো অন্তর্বর্তী সংস্কার করি। হে রুহের নদী— একবার মধুবানে ক্ষতগুলো ধুতে দাও; অসজীব গাবগাছের সহচরে দীর্ঘকাল প্রভাবিত বিস্মিত স্বর। যে গান গেয়েছে শিশু— তার মেরুন জামাজুড়ে ফিলিস্তিনের শুষ্ক মাঠ। হে করুণ বিপন্নপ্রেম— সমুদ্র আঁকাতে গিয়ে ঢেউয়ের বিলাপ শুনি।


মেঘের উত্তর পাশে ক্ষত

কতিপয় নকশা এঁকেছ সামান্য বৃক্ষের প্রস্তাবে— আশ্চর্য মুখস্রোত ভেঙে যে পুষ্পরেণু বনস্থলী গিয়েছে ভুলে, তা অসুস্থ আর শ্যামললতার নির্ভুল আচরণ। অনুরূপ আত্মসমর্পণ বহু বচনে স্থিতি সজাগ নীল শামুকে। সেই পর্বতে অধুনা আগুন চাষ করছে তোমার পুত্র— হে সুবিতা নক্ষত্রের নদীতে প্রত্যেকবার আমি শান্ত অগ্নীখনিজ। যতটা যথেষ্ট অঘ্রাণে বিরানভূমিতে সংশয় না রেখে— মেপ ফুলের অপরাধবোধ।


সতেরো হাজার সুবিতা

পুরাতন মখমল তোমার পছন্দ না। শহরের ধানক্ষেত জুড়ে তাই— জীবিত দুখুকে শূন্য দিনারে কলঙ্কিত করে একজন কুমারী। প্রতি ওয়াক্তে যার মা— শবেবরাতের চাঁদ লুকিয়ে রাখে অজলা পুকুরে।

সেখান থেকে দূরে ক্লাউড নক্ষত্রের নদী— ধূর্ত মহাজনেরা সেই হাটে দরকষাকষিতে বিক্রি করে অন্ধ ফুলের পাপড়ি, আর খাদ্যশস্য প্রত্যেকবার স্ফূর্ত ঘ্রাণে পালক মেলে। যেন কাটা কবুতরের বাগান উদ্দীপনা নিয়ে প্রেমকে চুষে খাচ্ছে। ও অবাঞ্ছিত আলিঙ্গন— তরুমূলে বিশ্লেষণ করো সতেরো হাজার সুবিতা কীভাবে একটি জোয়ান গাছকে পীড়িত করছে।

Comments

Post a Comment