কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি চূড়ান্ত বিষাক্ত পেয়ালা?

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি 

সেই বিপজ্জনক সোনার পেয়ালা—যেখান থেকে আমরা পুরস্কারের আশায় চুমুক দিই; অথবা ক্ষমতা অর্জনের জন্য জেনেশুনে অন্যের হাতে তুলে দিই, অথচ শেষ পর্যন্ত নিজেদেরই বিষাক্ত করে তুলি। কিছু রূপক এতটাই শক্তিশালী যে সময়ের স্রোত পেরিয়েও তারা বারবার ফিরে আসে। নতুন যুগ, নতুন প্রযুক্তি, নতুন সংকট—প্রতিবারই পুরোনো কোনো গল্প যেন নতুন পোশাক পরে আমাদের সামনে দাঁড়ায়। তাই প্রশ্নটি তাড়িয়ে বেড়ায়- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই কি সেই চূড়ান্ত বিষাক্ত পেয়ালা?

ম্যাকবেথের পেয়ালা। ম্যাকবেথ-এর গল্প জানেন? উইলিয়াম শেক্সপিয়রের এই কালজয়ী নাটকে স্কটল্যান্ডের থেন ম্যাকবেথ তিন জাদুকরীর ভবিষ্যদ্বাণী থেকে জানতে পারে— একদিন সে স্কটল্যান্ডের রাজা হবে। জানার পরই ভবিষ্যৎ গৌরবের অপেক্ষা তার কাছে অসহ্য হয়ে ওঠে। সিংহাসন দখলের জন্য সে তৎকালীন রাজা ডানকানকে হত্যা করে। সেই এক হত্যাকাণ্ডই তাকে এবং তার স্ত্রীকে টেনে নিয়ে যায় প্রতারণা, রক্তপাত, অপরাধবোধ, উন্মাদনা ও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর এক অন্ধকার গোলকধাঁধায়।

‘বিষাক্ত পেয়ালা’ কথাটির উৎস ম্যাকবেথ-এর প্রথম অঙ্কের সপ্তম দৃশ্য। ডানকানকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ম্যাকবেথ তখন নিজের বিবেকের সঙ্গে লড়ছে। সে বুঝতে পারছে— সহিংসতা কেবল অন্যের ওপর প্রয়োগ করা কোনো কাজ নয়; তা একদিন ফিরে আসতে পারে তার স্রষ্টার কাছেই। “আমরা রক্তাক্ত শিক্ষা দিই, যা শেখানো হলে ফিরে আসে- তার উদ্ভাবককে যন্ত্রণা দিতে।”-ম্যাকবেথের আশঙ্কা ছিল, যে বিষ সে অন্যের জন্য প্রস্তুত করছে, একদিন তাকেই সেই পেয়ালা ঠোঁটে তুলতে হতে পারে। তার আশঙ্কা সত্যি হয়। এখানেই ‘বিষাক্ত পেয়ালা’র রূপকটির শক্তি। যে ব্যক্তি পেয়ালাটি এগিয়ে দেয়, সে জানে এর বিপদ। আর যে ব্যক্তি পেয়ালাটি গ্রহণ করে, সে হয়তো জানেই না যে তার ভেতরে কী আছে। ফলাফল একই বস্তু— কিন্তু দুটি বিপরীত ভূমিকা। বিষাক্ত পেয়ালার পুরোনো গল্প মানবসভ্যতার গল্প বলার ইতিহাসে এই রূপকটি বারবার ফিরে এসেছে। প্যান্ডোরার বাক্সের কথা ভাবুন— একটি রহস্যময় ও আকর্ষণীয় বস্তু, যার ভেতর থেকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে অশুভের শক্তি। অথবা ইডেন উদ্যানের সেই আপেল— একটি মাত্র কামড়, আর তার সঙ্গে খুলে যায় জ্ঞান, আকাঙ্ক্ষা, লজ্জা ও নির্বাসনের এক নতুন জগৎ। গল্পগুলো আলাদা। কিন্তু কাঠামোটি প্রায় একই। একটি আকর্ষণীয় বস্তু আমাদের সামনে আসে। সেটি কোনো পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়— জ্ঞান, ক্ষমতা, সৌন্দর্য, অমরত্ব কিংবা অন্য কোনো কাঙ্ক্ষিত সম্পদ। আমরা হাত বাড়াই। চুমুক দিই। তারপর জানতে পারি, সেই পুরস্কারের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল মূল্য। আধুনিক ব্যবহারে অবশ্য ‘বিষাক্ত পেয়ালা’ বলতে আমরা প্রায়ই সেই ব্যক্তিকেই বোঝাই, যে প্রলোভনের বশে পেয়ালাটি হাতে তুলে নেয়। সে জানে না, সুন্দর পাত্রটির ভেতরে আসলে কী অপেক্ষা করছে। প্রিয় বিষাক্ত পেয়ালা গল্পের জগতে সবচেয়ে প্রিয় বিষাক্ত পেয়ালা সম্ভবত ১৯৮৯ সালের চলচ্চিত্র ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড-এর পবিত্র গ্রেইল। কাহিনি অনুসারে, এটি সেই পেয়ালা যা যিশু শেষ নৈশভোজে ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় দৃশ্যে এসে বোঝা যায়— সবচেয়ে ঝলমলে পেয়ালাটিই সঠিক পেয়ালা নয়। ভুল পেয়ালা থেকে পান করলে অমরত্ব নয়, আসে মৃত্যু। এই দৃশ্যটির সৌন্দর্য এখানেই: বিষাক্ত পেয়ালাটি দেখতে বিষাক্ত নয়। বরং সেটি আকর্ষণীয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইট অ্যান্ড ম্যাজিকের অসাধারণ প্রপস ও মেকআপ সেই রূপকটিকে আরো শক্তিশালী করে তোলে। সেটি আরো চমৎকার হলো, যে ব্যক্তি জেনেশুনে ভুল পেয়ালাটি এগিয়ে দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেও তার পরিণতি থেকে রক্ষা পায় না। ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড, ১৯৮৯, প্যারামাউন্ট পিকচার্স। চলচ্চিত্রের গ্রেইলটি ছিল আশ্চর্য রকমের সাধারণ। অথচ শিল্পকলায় গ্রেইলের উপস্থাপন প্রায়ই অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ। গ্যাব্রিয়েল রসেটির ১৮৭৪ সালের দ্য ড্যামসেল অফ দ্য স্যাঙ্কট গ্রেইল তার একটি সুন্দর উদাহরণ। একই পৌরাণিক বস্তু— কখনো চলচ্চিত্রের হাতে, কখনো চিত্রশিল্পীর হাতে— কিন্তু প্রতিবারই তা বহন করে আকাঙ্ক্ষা, রহস্য এবং বিপদের গল্প। বিশ্বাস, বিষ এবং পেয়ালা মানব ইতিহাসে আরো কিছু সত্যিকারের বিষাক্ত পানপাত্রের গল্প রয়েছে। ধর্মীয় কাহিনিতে এমন একটি গল্প আছে, যেখানে যোহনের সামনে বিষমাখা পেয়ালা এগিয়ে দেওয়া হয়। তিনি সেই পেয়ালা থেকে পান করেন, কিন্তু বিষ তাকে পরাস্ত করতে পারে না। এখানে পেয়ালাটি কোনো নৈতিক পতনের প্রতীক নয়; বরং এটি বিশ্বাসের পরীক্ষার প্রতীক। তবু এই চিত্রটি আমার কাছে আকর্ষণীয়। ১৬৩৭ সালে সেঘার্সের কর্মশালায় আঁকা যোহনের ছবিটি সেই পুরোনো গল্পকে এক অসাধারণ দৃশ্যমান রূপ দিয়েছে। কারাভাজ্জিওর কাজের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের অনুরাগ আছে। একই সঙ্গে রোমান্টিক যুগের চিত্রকলার প্রতিও গভীর ভালোবাসা রয়েছে। পুরোনো পৌরাণিক কাহিনি, নতুন বিপদ বিষাক্ত পেয়ালার এই গল্পগুলো বারবার ফিরে আসার কারণ বোধহয় খুব সহজ। পুরাণবিদ টমাস এ. শিপ্পি যেমন ইঙ্গিত করেছেন, নতুন পৌরাণিক কাহিনি প্রায়ই পুরোনো কাহিনির স্তরের ওপরই নির্মিত হয়। সংস্কৃতি বদলে যায়। চরিত্র বদলে যায়। প্রযুক্তি বদলে যায়। কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা, ভয় এবং প্রলোভনের কাঠামো খুব একটা বদলায় না। তাই শেক্সপিয়রের কয়েক শতাব্দী পুরোনো সতর্কবাণী আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। শুধু বিষের পাত্রটি বদলে গেছে। এবার সেটির নাম— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। নতুন বিষাক্ত পেয়ালা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দটি গণনার জন্য একটি নির্দিষ্ট শাখা হয়তো পুরোপুরি নির্ভুল নয়। কিন্তু এখন এটি এমন এক ছাতাশব্দে পরিণত হয়েছে, যার নিচে বৃহৎ ভাষা মডেল থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তব্যবস্থা পর্যন্ত নানা প্রযুক্তি এসে পড়েছে। একসময় এগুলো ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান গবেষণাগারের বীপ-বীপ আর ঘর্ঘর শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখন এগুলো আমাদের চারপাশে। লেখায়। ছবিতে। কোডে। শিক্ষায়। ব্যবসায়। দৈনন্দিন প্রশাসনে। এবং ক্রমশ মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও। একজন বিনিয়োগকারীর চোখে এটি বিপুল সম্ভাবনার প্রযুক্তি। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিকের চোখে একই প্রযুক্তি কখনো হয়ে উঠতে পারে এমন একটি শক্তি, যা ভুলভাবে নির্মিত বা ভুলভাবে ব্যবহৃত হলে সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে প্রশ্নটি আবার ফিরে আসে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি চূড়ান্ত বিষাক্ত পেয়ালা? পেয়ালাটির ভেতরে কী আছে? এআই আমাদের এমন কিছু করার সুযোগ দিয়েছে, যা অল্প কিছুদিন আগেও অসম্ভব মনে হতো। অল্প পরিশ্রমে বিপুল পরিমাণ লেখা তৈরি করা যায়। ছবি বানানো যায়। তথ্য সাজানো যায়। কোড লেখা যায়। প্রশাসনিক কাজ স্বয়ংক্রিয় করা যায়। দীর্ঘ নথি বিশ্লেষণ করা যায়। দৈনন্দিন কর্মপ্রবাহের বড় অংশ মেশিনের হাতে তুলে দেওয়া যায়। এটি নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। কিন্তু শক্তির সঙ্গে আসে মূল্য। প্রযুক্তিটি কখনো বিপুল পরিমাণ গণনাশক্তি ও সম্পদ ব্যয় করে এমন কাজেও, যার মূল্য তুলনামূলকভাবে সামান্য। এর পরিবেশগত ব্যয়ের প্রশ্ন রয়েছে। সামাজিক সম্পদের বণ্টনের প্রশ্ন রয়েছে। আর রয়েছে আরো সূক্ষ্ম একটি প্রশ্ন— আমরা যখন কোনো কাজ মেশিনকে দিয়ে দিচ্ছি, তখন সেই কাজটি করতে করতে যে মানবিক দক্ষতাটি তৈরি হতো, সেটির কী হচ্ছে? এই প্রশ্নটি নিজেকে করে দেখুন সবচেয়ে বেশি ভাবাবে হয়তো। সুন্দর জিনিসই সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষাক্ত ফাঁদ, ছুরি বা অস্ত্রকে দেখলে আমরা তার বিপদ বুঝতে পারি। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে না। কিন্তু বিষাক্ত পেয়ালা তা করে। কারণ পেয়ালাটি সুন্দর। ঝকঝকে। কখনো সোনার। কখনো রত্নখচিত। কখনো এমন এক পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেয়েছি। এই কারণেই ‘বিষাক্ত পেয়ালা’ রূপকটি এআই-এর ক্ষেত্রে এত কার্যকর বলে মনে হয়। এআই আমাদের সময় বাঁচায়। আমাদের উৎপাদনশীল করে। আমাদের ক্ষমতা বাড়ায়। আমাদের এমন কিছু করতে দেয়, যা আগে করতে পারতাম না। কিন্তু সেই সুবিধার বিনিময়ে আমরা কী দিচ্ছি? জ্ঞানের নীরব অবক্ষয়

এআইয়ের সবচেয়ে স্পষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পানের আপনিও— প্রচুর সম্পদের অপচয়, পরিবেশগত ক্ষতি, সামাজিক সম্পদের পুনর্বণ্টন। যখন রাত জেগে ভাববেন- দৃশ্যমানগুলো। আপনার জ্ঞান কি ভেতর থেকে, নীরবে, অদৃশ্যভাবে কলুষিত হয়ে যাচ্ছে? উচ্চমানের জ্ঞান তৈরি হয় মানুষের দীর্ঘ অনুশীলন, ভুল, সংশোধন, অভিজ্ঞতা এবং চিন্তার মধ্য দিয়ে। কিন্তু ভাষাগত সাবলীলতার একটি পাতলা অথচ বিস্তৃত আবরণ দিয়ে বৃহৎ ভাষা মডেল এমনভাবে লেখা তৈরি করতে পারে, যা পড়তে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়— এমনকি তার ভেতরের পরিবর্তন বা বিকৃতি শনাক্ত করাও কঠিন হতে পারে।

ভাবুন, যদি পৃথিবীর প্রতিটি এআই-সম্পাদিত লেখা তার নিজের একটি সুস্পষ্ট চিহ্ন বহন করত: “এআই দ্বারা সম্পাদিত” তাহলে আমরা অন্তত জানতাম, আমাদের সামনে কী রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা আরও অস্পষ্ট। মানুষের লেখা ও মেশিনের লেখা ক্রমশ একই দৃশ্যপটে মিশে যাচ্ছে।
আমরা কি নিজেদের দক্ষতা হারাচ্ছি? আরেকটি বিষয় উদ্বিগ্ন করার মতো। মানুষ যেভাবে এআই ব্যবহার করছে, তাতে আমরা কি ধীরে ধীরে আমাদের কিছু জ্ঞানীয় দক্ষতা অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছি? আমাদের মস্তিষ্ক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে শেখে। চিন্তা করতে গেলে চিন্তার ক্ষমতা বাড়ে। লিখতে গেলে লেখার ক্ষমতা বাড়ে। মনে রাখতে গেলে স্মৃতির অনুশীলন হয়। সমস্যা সমাধান করতে গেলে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি হয়। কিন্তু যদি প্রতিটি কঠিন কাজ আমরা অন্য কারো— অথবা অন্য কোনো মেশিনের— হাতে তুলে দিই, তাহলে সেই দক্ষতাগুলো কীভাবে টিকে থাকবে? এখানেই বিপদটি সূক্ষ্ম। কোনো একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা হয়তো দেখব না যে আমাদের চিন্তার ক্ষমতা হারিয়ে গেছে। বরং ধীরে ধীরে আমরা আর নিজে চিন্তা করার প্রয়োজন অনুভব করব না। এটাই হয়তো আরো গভীর বিপদ। এআই স্লপের বন্যা আংশিক বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় “এআইস্লপ”-এর বন্যায় সৃজনশীল কাজের বিশাল ভান্ডার ডুবে যেতেই দেখা যাবে অস্বস্তি বোধের। কারণ শক্তিশালী গল্প মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয়। একজন মানুষ কোনো ঘটনা দেখেছে। কোনো ব্যথা অনুভব করেছে। কোনো সম্পর্ক হারিয়েছে। কোনো আনন্দ পেয়েছে। কোনো প্রশ্নের সঙ্গে বছরের পর বছর লড়েছে। তারপর সে লিখেছে। সেই লেখায় শুধু তথ্য থাকে না। থাকে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। সিন্থেটিক ভাষা-ইঞ্জিনের সমস্যা হলো— তারা কোনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়াই ভাষার নিদর্শন অনুকরণ করতে পারে। ফলে তারা এমন বিষয়বস্তু তৈরি করতে পারে, যা দেখতে সম্পূর্ণ মনে হয়, কিন্তু যার পেছনে কোনো জীবিত অভিজ্ঞতা নেই। একটি নিখুঁত প্রতিরূপ। কিন্তু প্রতিরূপ আর অভিজ্ঞতা এক জিনিস নয়। যারা পেয়ালাটি এগিয়ে দিচ্ছে? তবু এই উদ্বেগের গল্পের অর্ধেকই আমরা বলেছি। কারণ আমরা সবাই তো সেই পেয়ালা থেকেই পান করছি। তাহলে যারা পেয়ালাটি এগিয়ে দিচ্ছে, তাদের কী হবে? যারা এআই তৈরি করছে? যারা এটি বিক্রি করছে? যারা এর ওপর ব্যবসা দাঁড় করাচ্ছে? যারা এর সাহায্যে ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জন করছে?
আমি স্বীকার করি— এই বিষাক্ত পেয়ালা শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই উল্টো ফল দেবে কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। ম্যাকবেথের ক্ষেত্রে উত্তরটি পরিষ্কার ছিল। সে নিজের তৈরি ফাঁদে নিজেই আটকা পড়েছিল। কিন্তু এআই-এর ক্ষেত্রে এমন কোনো ম্যাকডাফ বা ম্যালকম কি আছে, যে এসে দুর্গের দরজায় দাঁড়াবে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে?

Comments